আন্তর্জাতিক রিপোর্টার: মো: সেলিম রানা
মোবাইল:0579353225 ( সৌদি আরব)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক তরুণ ও প্রতিবাদী সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিমরাইল গ্রামের মধ্যপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত সাংবাদিকের নাম দ্বীন ইসলাম। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে একজন সাহসী ও সচেতন সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে আসছিলেন এবং বিশেষ করে মাদকবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আলোচনায় ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা। তিনি জানান, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “একজন সাংবাদিককে এভাবে পিটিয়ে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা আরও বলেন, নিহত দ্বীন ইসলামের পরিচালিত অনলাইন পেইজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে তার সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী মহল ও অসাধু ব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকায় তিনি কিছুদিন আগে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। আর সেখানেই নির্মম হত্যার শিকার হন তিনি।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ব শত্রুতা বা মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। বিএমএসএফ নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, দ্বীন ইসলামের সঙ্গে যাদের পূর্ব বিরোধ ছিল তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ