আনোয়ার হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:
উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও টানা বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ধানের কম দামে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া, ফকিরপাড়া, বয়ড়া ও বাপ্তা এলাকায় প্রথমে শিলাবৃষ্টিতে মৌসুমি ফসল বোরো ধানের ক্ষতি হয়। এরপর টানা বর্ষণে অবশিষ্ট ধানও পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে অধিকাংশ জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ১২০০ টাকা। প্রতি কাঠা জমিতে ধান উৎপাদন হচ্ছে মাত্র আধা মণ থেকে এক মণ। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হচ্ছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে সেই খরচও ওঠানো যাচ্ছে না, ফলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বরমী, রাজাবাড়ি ও তেলিহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোমবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়।
তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, “আগে শিলাবৃষ্টিতে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার বৃষ্টির পানিতে জমির ধান ডুবে গেছে। কীভাবে ঋণ শোধ করবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক জানান, আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় ধারাবাহিক ক্ষতির কারণে তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে সামনে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মধ্যে পড়ে শ্রীপুরের কৃষকরা এখন বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন। দ্রুত সহায়তা না পেলে এ সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ