নূর মোহাম্মদ,
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি :
দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কুমারটেক, পাল পাড়া ও টেঙ্গরপাড়ার গ্রামগুলোতে এখন নাওয়া-খাওয়ার ফুসরত নেই কারিগরদের। তবে মাটির জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়া আর আধুনিক পণ্যের দাপটে দুই শতাব্দীর এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৈশাখী মেলা উপলক্ষে পলাশের মৃৎশিল্পীরা নিপুণ কারুকাজে তৈরি করছেন শিশুদের রকমারি খেলনা, মাটির ব্যাংক, হাঁড়ি, কড়াই, বাসন, থালা ও নানা ধরনের পশুপাখি যেমন—হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া ও ময়ূর। শুধু পুরুষ নন, ঘরের নারী সদস্যরাও সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। মাটির কাজ ধরে রাখা থেকে শুরু করে রং করা ও শুকানোর সব কাজেই নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে আছে কারিগরদের দীর্ঘশ্বাস। মৃৎশিল্পী দেবিন্দ্র চন্দ্র পাল ও দিপালী চন্দ্র পাল জানান, পহেলা বৈশাখের আগে খানিকটা সময়ের জন্য মৃৎশিল্প তার হৃতগৌরব ফিরে পেলেও বছরের বাকি সময় তাঁদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। ক্রেতারা বেশি দামে মাটির জিনিস কিনতে চান না, ফলে তাঁদের লোকসান গুনতে হয়।মৃৎশিল্পী নিপেন্দ্র চন্দ্র পাল ও ফনিন্দ্র চন্দ্র পাল আক্ষেপ করে বলেন, “আগে আমাদের তৈরি জিনিসের খুব চাহিদা ছিল। এখন প্লাস্টিক আর স্টিলের জিনিস বাজার দখল করে নিয়েছে”। তাঁরা আরও জানান, আয় কম হওয়ায় এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁদের সন্তানরা আর এই পৈত্রিক পেশায় আসতে চাইছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।পলাশের টেঙ্গর পাড়া গ্রামের প্রায় ২০টি পাল পরিবারসহ উপজেলার শতাধিক পরিবার এখনও এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে খেলনা বা শোপিসের মতো সৌখিন জিনিস তৈরি করে এই প্রাচীন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
বাঙালির শেকড়ের এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে কেবল বৈশাখী মেলা নয়, সারা বছরই মাটির জিনিসের কদর বাড়ানো এবং কারিগরদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক চেতনার কন্ঠ